ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া, সময়সূচী, কেবিন ভাড়া, টিকিট কাটার নিয়ম স্টেশন লিস্ট এবং কতক্ষণ সময় লাগে তা আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদেরকে দেখতে জানাবো।
আপনি যদি ঢাকা টু কক্সবাজার এবং কক্সবাজার টু ঢাকা ট্রেনের মাধ্যমে যেতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার সঠিক সময়সূচী এবং ভাড়া আগে থেকে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে চলুন এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে দুইটি ট্রেন চলাচল করে থাকে সেগুলো হলো কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস। এই দুটি ট্রেনের ছাড়ার সময় ও পৌঁছানোর সময় এবং বন্ধের দিন ও কতক্ষণ সময় লাগে তা নিচে দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | বন্ধের দিন | সময় লাগে |
|---|---|---|---|---|
| পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬) | সকাল ৬:১৫ মিনিট | দুপুর ২:৪০ মিনিট | বুধবার | ৮ ঘন্টা ২৫ মিনিট |
| কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৪) | রাত ১১:০০ মিনিট | সকাল ৭:২০ মিনিট | সোমবার | ৮ ঘন্টা ২০ মিনিট |
প্রতিটি ট্রেন একদম নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় তাই অবশ্যই আপনারা নির্দিষ্ট সময়ের কমপক্ষে আধা ঘন্টা আগে স্টেশনে পৌঁছাবেন এবং টিকিট সংগ্রহ করবেন আর যদি আগেই টিকিট সংগ্রহ করে থাকেন তাহলে নিজের আসন খুঁজে নিবেন।
কক্সবাজার টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
কক্সবাজার যাওয়ার পরে আবার ট্রেনের মাধ্যমে ঢাকা আসতে চাইলে দুইটি ট্রেন পাবেন কক্সবাজার এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস। দুইটি ট্রেনের আলাদা সময়সূচী রয়েছে নিচে তা দেওয়া হলো:
| ট্রেনের নাম | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | বন্ধের দিন | সময় লাগে |
|---|---|---|---|---|
| কক্সবাজার এক্সপ্রেস (৮১৩) | দুপুর ১২:৩০ মিনিট | রাত ৯:০০ মিনিট | মঙ্গলবার | ৮ ঘন্টা ৩০ মিনিট |
| পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫) | সন্ধ্যা ৭:৪৫ মিনিট | রাত ৪:২০ মিনিট | বুধবার | ৮ ঘন্টা ৩৫ মিনিট |
সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন এই ট্রেনগুলো নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী চলাচল করে থাকে তো আপনার পছন্দের সময় অনুযায়ী যেকোনো ট্রেনের মাধ্যমে যাত্রা করতে পারেন।
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন ভাড়া ২০২৬
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ হয়ে থাকে ট্রেনের আসন বিভাগ অনুযায়ী। ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী দুইটি ট্রেনের আলাদা তিনটি করে আসন বিভাগ রয়েছে যেমন শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি বার্থ, এসি সিট। আসন বিভাগ অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া
| আসন বিভাগ | ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৭৫৪ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ১৪৪৩ টাকা |
| এসি সিট | ১৭২৮ টাকা |
কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া
| আসন বিভাগ | ভাড়া |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৭৫৪ টাকা |
| স্নিগ্ধা | ১৪৪৩ টাকা |
| এসি বার্থ | ২৬৪৪ টাকা |
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের কেবিন ভাড়া ২০২৬
ঢাকা টু কক্সবাজার রুটের ট্রেনের কেবিন ভাড়া কেবিনের ধরন অনুযায়ী জনপ্রতি ১৭২৮ টাকা থেকে ২৬৪৪ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ডাবল এবং সিঙ্গেল কেবিনেট ভাড়া এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া কম এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া বেশি।
একটি সিঙ্গেল কেবিনে একসাথে দুইজন থাকা যায় এবং একটি ডাবল কেবিনে একসাথে চারজন থাকা যায় জনপ্রতি হিসাব করলে প্রতিটি কেবিনের ভাড়া কত পড়বে তা আপনারা বুঝতে পারবেন। কেবিন ভাড়া করার আগে অবশ্যই বর্তমান ভাড়া জেনে নিবেন।
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন টিকিট কাটার নিয়ম ২০২৬
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের টিকিট অনলাইন এবং সরাসরি স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে কাটতে পারবেন। অনলাইনে কিভাবে অগ্রিম টিকিট কাটতে পারবেন তা নিচে দেওয়া হলো:
১. মোবাইল ফোন অথবা কম্পিউটার থেকে গুগলে সার্চ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে এর eticket.railway.gov.bd এই অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
২. কিছু তথ্য দিয়ে এই ওয়েবসাইটের মধ্যে একটি একাউন্ট তৈরি করতে হবে তারপরে নাম্বার এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটের মধ্যে লগইন করে নিবেন।
৩. ওয়েবসাইটের হোম পেজে From অপশনে ঢাকা সিলেক্ট করতে হবে To অপশনে কক্সবাজার সিলেক্ট করতে হবে। তারিখ ও আসন বিভাগ বা ক্লাস নির্বাচন করে Search Train অপশনে প্রেস করতে হবে।
৪. ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী দুইটি ট্রেনের নাম চলে আসবে সেখান থেকে যেকোনো একটি ট্রেনের টিকিট বুকিং দেওয়ার জন্য আসন বিভাগের নিচে Book Now লেখার উপর প্রেস করে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে।
৫. কোচ নির্বাচন করতে হবে তারপরে সেখানে ফাঁকা রয়েছে এরকম দেখে পছন্দ অনুযায়ী সিট সিলেক্ট করতে হবে। সিট সিলেক্ট করার পরে Continue Purchase বাটনে প্রেস করবেন।
৬. ভেরিফাই করার জন্য মোবাইল নাম্বারে চার সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড পাঠানো হবে সেখানে একটি ফাঁকা ঘরে সেই ভেরিফিকেশন কোড বসিয়ে ভেরিফাই করে নিতে হবে।
৭. এই ধাপে টিকিট ক্রয়কারীর তথ্য দিতে হবে যেমন নাম, সচল মোবাইল নাম্বার এবং জিমেইল। সবগুলো সঠিকভাবে দিয়ে পরবর্তী ধাপে যাবেন।
৮. টিকিটের মূল্য পেমেন্ট করতে হবে সেজন্য যেকোন একটি মোবাইল ব্যাংকিং সিলেক্ট করে পেমেন্ট করে দিন। বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন।
৯. পেমেন্ট করা হয়ে গেলে টিকিট কাটা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে এবার টিকিটের অনলাইন কপি দিয়ে দেয়া হবে সেটা আপনার মোবাইলে সংরক্ষণ করে রেখে দিবেন তাহলে সেই টিকিটের মাধ্যমে ট্রেন ভ্রমণ করতে পারবেন।
ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেন স্টেশন লিস্ট
ঢাকা টু কক্সবাজার রুটে ট্রেনগুলো ঢাকা এবং কক্সবাজার সহ চারটি স্টেশন হয়ে চলাচল করে থাকে সেগুলো স্টেশনের নাম নিচে দেওয়া হলো:
- ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন
- ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন
- চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন
- কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন
ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে পাঁচ মিনিট যাত্রা বিরতি নেওয়া হয় এবং চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ৪০ মিনিট যাত্রা বিরতি নেওয়া হয়।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনে যেতে কত সময় লাগে
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ট্রেনে যেতে কক্সবাজার এক্সপ্রেস এর মাধ্যমে সময় লাগে ৮ ঘন্টা ২০ মিনিট এবং পর্যটক এক্সপ্রেস এর মাধ্যমে যেতে সময় লাগে ৮ ঘন্টা ২৫ মিনিট। তবে বিভিন্ন কারণে এই সময় কিছুটা কম বেশি হতে পারে।
ঢাকা টু কক্সবাজার কত কিলোমিটার
ঢাকা টু কক্সবাজার এর দূরত্ব ৩৪৬ কিলোমিটার তবে সড়কপথে এবং ট্রেন পথে এই দূরত্বের পার্থক্য রয়েছে। সড়ক পথে এই দূরত্ব কিছুটা বেশি হতে পারে।
ট্রেন ভ্রমনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- ট্রেনের সিট পাওয়ার জন্য অবশ্যই অনলাইনের মাধ্যমে কয়েকদিন আগে ট্রেনের টিকিট বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
- যেহেতু ঢাকা টু কক্সবাজার এটি একটি দীর্ঘযাত্রা তাই যে সিটে বসতে পছন্দ করেন সেটা সেটা বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করবেন।
- অতিরিক্ত ভারী কোন ব্যাগ বা লাগেজ না নিয়ে হালকা কোন ব্যাগ নিবেন এবং জিনিসপত্র গুলো ভালোভাবে ব্যাগের মধ্যে নিয়ে নিবেন।
- ট্রেন ছাড়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে গিয়ে পৌঁছাবেন এবং নিজের সিট খুঁজে নিবেন।
- ঢাকা টু কক্সবাজার যেহেতু দূরের যাত্রা সেজন্য সাথে করে হালকা শুকনো কোন খাবার নিয়ে নিবেন।
- যতটা সম্ভব ট্রেনের মধ্যে বিক্রি হওয়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
- পাশের কোন যাত্রী খাবার দিলে সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন।
- আপনার ব্যাগ বা সাথে প্রয়োজনীয় যে জিনিসপত্রগুলো থাকবে সেগুলো নিজের কাছে রাখবেন।
- ট্রেনের দরজায় গিয়ে দাঁড়াবেন না এবং জানালা দিয়ে মাথা বা মোবাইল বের করবেন না।
- ট্রেনের মধ্যে কোন ধরনের ধূমপান করবেন না এবং জোরে আওয়াজ করবেন না।
- ট্রেন থেকে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট স্টেশন খেয়াল করতে হবে।
- ট্রেন থেমে যাওয়ার পরে তাড়াহুড়ো না করে আসতে ধীরে নেমে যেতে হবে।
- বয়স্ক এবং বাচ্চা থাকলে তাদেরকে সাবধানে নামিয়ে নিতে হবে।
- কক্সবাজার সেখানে ভ্রমণের জন্য গেলে আগে থেকে হোটেল বুকিং দিতে পারেন।
এবং টাকা পয়সা নিয়ে চলাচল করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সাথে অনেক বেশি নগদ টাকা নিয়ে চলাফেরা না করাই ভালো হবে। এই নিয়মগুলো মেনে চললে অবশ্যই আপনাদের যাত্রা অনেক সুন্দর হবে।
লেখকের মন্তব্য
প্রিয় বন্ধুরা আশা করছি আপনারা আজকের আর্টিকেল থেকে থেকে আপনারা জানতে পেরেছেন ঢাকা টু কক্সবাজার ট্রেনের ভাড়ার তালিকা, সময়সূচী, টিকিট কাটার নিয়ম, স্টেশন লিস্ট এবং এই সম্পর্কিত আরো বেশ কিছু বিষয়ে।
এই বিষয়ে যদি আপনাদের আরো কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে সেটা কমেন্ট করে আমাদেরকে জানাতে পারেন এবং এরকম বিভিন্ন রুটের ট্রেনের ভাড়া এবং সময়সূচী জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করে রাখতে পারেন।






